Friday, June 6, 2025

প্রথম দিন ( কাঠমান্ডু অবতরণ )

 

২৯ মে,২০২৫

সকাল থেকেই পুরোদমে বৃষ্টি চলছে। শুনেছি বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এতদিন কাঠফাটা গরমের শেষে  আজকে যাত্রা শুরু দিনই এমন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়া লাগল !

যাই হোক, ফ্লাইট  দুপুর ১২:৩০টার দিকে। দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সরকারী কার্যদিবসের শেষ দিন, আবার এমন বৃষ্টি। তো যা হওয়ার তাই হলো …অসহনীয় জ্যাম পুরো রাস্তায়। আমি আব্বুর সাথে বাসা থেকে বেরোলাম আনুমানিক ৯টার দিকে ।কয়েক গ্রুপে ভাগ হয়ে আমার বাকি বন্ধুরা এয়ারপোর্টে পৌঁছালো।রিহা, আজমাইন, আফ্রিদি  হয়তো আর কিছুক্ষণ দেরি করলেই ইমিগ্রেশন মিস করত !

তা শেষমেষ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে ভালোভাবেই আমরা বিমানে উঠলাম। "আমরা" ছিলামআমি, তাজওয়ার, আফ্রিদি, রিহা, আজমাইন,প্রমি, নাভিদ, মাইশা। আমাদের ফ্লাইট নম্বর ছিল BG 0371 . মেঘলা আকাশ থাকায় সব ফ্লাইটই দেরি করছিল।  আনুমানিক :০০টার দিকে আমাদের  ফ্লাইট নেপালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্লেনটিতে যাত্রীদের আসনে আধুনিক Live Radar Flight tracker-এর মতোন কিছু লাগা্নো ছিল নাকিন্তু তারপরও বাংলাদেশ এবং নেপালের আকাশ খুব স্পষ্টভাবে আলাদা করা যাচ্ছিল;ঢাকা যেন আরও বেশি আলাদা করা যায় বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে! আমার পাশে একটি ছেলে বসে ছিল, তাকে দেখতে উপর্যুপরি বাঙালি মনে হচ্ছিল। বাঙালি মনে করে বাংলায় দু’একটা কথাও বলতে লাগলাম। বেচারা ১ মিনিট সহ্য করে আমাকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার জন্য অনুরোধ করল ।আমি কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে গেলাম। তারপরে বুঝতে পেরে ওর সাথে গল্প জুড়ে দিলাম, যেটা আমার অন্যতম বদ অভ্যাস। ওর নাম নিমেশ। নেপাল থেকে বাংলাদেশে এসেছিল একটা জয়েন্ট কনফারেন্সের ওয়ার্কশপে। ওরও আমার মতোন প্রথম ফরেইন ট্রিপ ছিল এটা।

               

ত্রিভুবন বিমানবন্দর, নেপাল


দেখতে দেখতে আকাশ স্বচ্ছ হয়ে গেল চারপাশে খুব ছোট ছোট বিল্ডিং আর সরু নালাযুক্ত শস্য ক্ষেত দৃশ্যমান হয়ে উঠলো ,বুঝলাম অন্য কোন দেশে প্রবেশ করেছি ।ধীরে ধীরে কাঠমান্ডুর পাহাড়গুলো ধরা দিল, দূরের পাহাড় আর আকাশ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে ।বিমান থেকে ঘোষণা দিল কিছুক্ষণের মাঝেই আমাদের প্লেন ত্রিভুবন বিমানবন্দরে প্রবেশ করবে। বিমানবন্দরের এই নাম নিয়ে যত বেশি ইতিহাস এই কয়েকদিনে ঘেঁটেছি তার ইয়ত্তা নেই । দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তেই হুট করে আমাদের প্লেন কাঠমান্ডুর বিখ্যাত( নাকি কুখ্যাত !) ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করল । নামার পর বোর্ডিং এ আমার লাগেজ নিতে গিয়ে এক অদ্ভুত বিড়ম্বনায় পড়লাম। আব্বু গতকালকে লাগেজ নতুন কিনে দিয়েছিল। রঙ মনে আছে খয়েরি বা ব্রাউন টাইপের কিন্তু এই রকম এর প্রায় ১০-১৫ টার মতোন লাগেজ দেখে আমি আমার লাগেজ উদ্ধার করতে পারছিলাম না। পরে বিমান বাংলাদেশের বোর্ডিং ট্যাগ দেখে শিওর হই কোনটা আমার লাগেজ !প্লেন থেকে নামার পরে আবহাওয়ার তারতম্য সেভাবে টের পেলাম না বাংলাদেশ আর নেপালের মাঝে ।  তবে আর্দ্রতার পার্থক্য বেশ নজরে পড়ার মতন ,ঘাম হচ্ছিল না চারপাশে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ার মাঝেও। আমাদের সাথে একই ফ্লাইটে আমাদের বন্ধুদের আরেকটা গ্রুপ- তুষার , একান্ত ওরাও কাঠমান্ডু পৌঁছালো । ওদের ট্রেক অন্নপূর্ণা বেজ ক্যাম্পে। 

                                         

ত্রিভুবন বিমানবন্দরে আমরা


এয়ারপোর্ট থেকে নেমে NCell সিম কিনে নিলাম।পাঠাও কার ভাড়া করে আমরা চললাম বাসস্ট্যান্ডের দিকে। পাঠাও এর ড্রাইভার বেশ আন্তরিক ছিল। বাসস্ট্যান্ডের লোকেশন খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। তাও উনি ধৈর্য নিয়ে সুইফট বাস স্ট্যান্ড খুঁজে দিলেন ।তারপর আমরা আটজন লোকাল বাসে করে থামেলে পৌঁছলাম খাওয়ার জন্য । লোকাল বাসে নাভিদের ১৫ হাজার রুপি চুরি গেল ,খুব বাজে ইম্প্রেশন দিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হল নেপালে ।

থামেল, কাঠমান্ডু



 বিকেলে বাংলাদেশি হালাল হোটেলে রুটি কাবাব খেলাম ।আমি থামেলের টুরিস্ট এরিয়ায় শপ গুলো থেকে জায়নামাজের কাপড় কিনলাম ।একটা হ্যাট কিনতে গিয়েছিলাম ,যাতে অস্বাভাবিক দাম হাঁকাচ্ছিল। শেষমেষ তেমন কিছু কিনতে পারলাম না, রওনা দিলাম পোখারার উদ্দেশ্যে।



No comments:

Post a Comment

সপ্তম দিন ( গন্তব্য বাংলাদেশ )

  ০৪ জুন ২০২৫ সকাল ছয়টার দিকে ঘুম থেকে উঠে যাই। আমি, প্রমি আর নাভিদ বেরিয়ে পড়ি থামেল কাঠমান্ডুর রাস্তায়। সকালে তেমন কোন খাবারের দোকান ...