৩০ মে,২০২৫
ছবির মতন সুন্দর
শহর পোখারা ।কাঠমান্ডু থেকে ছেড়ে আসা বাস পোখারায় পৌঁছালো সকাল সাতটার দিকে । কাঠমান্ডু
পোখারা রুটে দুইটা ট্রাফিক অ্যাক্সিডেন্ট ঘটার কারণে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের অবস্থা
ছিল ভয়াবহ ।আমরা তাই নির্ধারিত সময় থেকে তিন ঘন্টা দেরিতে পৌঁছালাম পোখারায় ।নেপালে
তখন পরিবহন ধর্মঘট চলে ,কোন গাড়ি বা ক্যাবের চিহ্নমাত্র নেই। রাস্তায় অনেক চেষ্টা
করেও পছন্দ মতন ভাড়ায় গাড়ি ম্যানেজ করতে না পারায় আমরা পায়ে হেঁটেই রওনা দিলাম।স্যুটকেস
গুলোর অতিরিক্ত ওজন বহন করার ঝামেলা বাদে কোনো সমস্যা ছাড়াই হোস্টেলে পৌঁছালাম।
![]() |
| প্যারাগ্লাইডিং টেক অফের আগে |
![]() |
| পাখির চোখে পৃথিবী |
আমাদের হোটেলে
বুকিং ছিল ওইদিন দুপুর ১২ টা থেকে। ১২ টার আগে আমরা ব্যাগ সহ করিডোরের পাশের গেস্ট
রুমে লবিতে বসলাম।সামনের দোকান থেকে দই আলু পরাটা চাটনি দিয়ে ব্রেক ফাস্ট করে নিলাম।
অনেক আশা নিয়ে মিল্ক কফিও অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু আশাহত হলাম স্বাদ নিয়ে।দুধে পানির
ঘনত্ব অনেক বেশি।বাংলাদেশে চা কফি দামে সস্তা,মানেও অনেক ভালো।নেপাল বাংলাদেশ তুলনা
করা দুরূহ। এখন অবধি নেপালে সব কিছু বাংলাদেশ থেকে ২-৩ গুণ বেশি ব্যয় বহুল মনে হয়েছে।
![]() |
| বৃষ্টিস্নাত পোখারা |
নাস্তা শেষ
করে অপেক্ষা করতে লাগলাম এক্টিভিটিজ এর জন্য। শুধু প্রমি,আজমাইন আর তাজওয়ার বাঞ্জি
দিল।বাকিরা আমরা প্যারাগ্লাইডিং এর জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম।প্যারাগ্লাইডিং এর অভিজ্ঞতা
অভূতপূর্ব। এটা শুরুতে বিপজ্জনক মনে হলেও একবার উঠার পরে এটাই সবচেয়ে বেশি রিল্যাক্সিং
মনে হয়। প্যারাগ্লাইডিং এর পাইলট আর ইন্সট্রাক্টর সময় ধরে কিছুক্ষণ বুঝানোর পর টেক
অফ করার জন্য রেডি হই।টেক অফের প্রথম ৫ সেকেন্ড ঘোরের মাঝে ছিলাম। যদিও এত জোরে চিৎকার
করছিলাম,সবাই নাকি ২০ সেকেন্ড অবধি আমার গলা শুনতে পাচ্ছিল! ১৫-২০ মিনিট ফ্লাইট এ থেকে
তারপর পাইলট ল্যান্ডিং করলো। ল্যান্ডিং এর টাইমে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নির্ধারিত
জায়গায় বেশ দক্ষতার সাথে পাইলট আমাকে ল্যান্ড করালো।প্যারাগ্লাইডিং এর মুহূর্ত গুলোও
আমার আজীবন মনে থাকবে।পাখির চোখে পৃথিবীকে দেখা - মনে রাখার মতোন দৃশ্য ছিল সেটা।বাসা
থেকে আম্মু বারবার নিষেধ করায় অন্য এক্টিভিটি গুলো করিনি। নেপালের পাইলটের সাথে বেশ
অনেকক্ষণ প্রলাপ পারলাম, যেটা আমার চির চায়িত বৈশিষ্ট্য।
![]() |
| রাত্রির গৌরিশংকর লবি |
দুপুর দুইটা নাগাদ পোখারায় গৌরিশঙ্কর হোস্টেলে পৌঁছালাম
।আমি আর আফ্রিদি বাদে বাকি সবাই রিভার রাফটিং এ গেল ।আফ্রিদি তখন হোস্টেলের রুমে ঘুমোচ্ছে ।এটা
লিখতে লিখতে একটা কথা মনে পড়ল- যখন সবাই প্যারাগ্লাইডিং এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল তখন
ঘুমন্ত অবস্থায় আফ্রিদির মুখে হোস্টেলের কুকুরটি চেটে দেয় -- বেচারা হন্তদন্ত হয়ে
ঘুম থেকে উঠে ।যাই হোক, আমি আফ্রিদিকে হোস্টেলে রেখে পোখারার মার্কেটে হালাল খাবার
খুঁজতে বের হলাম ।রাস্তায় হাঁটার সময় পাশ দিয়ে গ্রোসারি গুলোর দাম দেখছিলাম।কোন
কিছুর দামই বাংলাদেশের চেয়ে কম মনে হল না; জামা কাপড় সবকিছুই ১০০০ নেপালী রুপির উপরে।
সকালে সাতশ রুপি দিয়ে একটি হ্যাট কিনেছিলাম পোখারার একটা দোকান ইয়াক এন্ড টি থেকে
(নাম ভুল হতে পারে)-- যেটা কাঠমান্ডুতে এক হাজার রুপির কমে কোন ভাবেই দিতে রাজি হয়নি।
| পোখারা চায়না টাউন |
দেখতে দেখতে
অনেকটা রাস্তা পেরিয়ে হাতের ডান পাশে একটা হালাল রেস্টুরেন্ট পেয়ে যাই । হোটেলে ডাল
ভাত এবং ডিম খেয়ে নিলাম ১০০০ রুপিতে ,বাংলাদেশে যেটা খেতে আমার ১০০ টাকাও হয়তো লাগলো
না । খেয়ে দেয়ে আবার হেঁটে হেঁটে পোখারার হোস্টেলে পৌঁছলাম ,গিয়ে ধুম করে ঘুমিয়ে
পড়লাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি সবাই রিভার রাফটিং শেষে হোস্টেলে পৌঁছে গেছে ।সন্ধ্যার পরে
সবাই ডিনারের জন্য বের হয়ে যাই।
ঝিরঝির করে
বৃষ্টি পড়ছিল, রাস্তার চারপাশের দোকান থেকে বাতিগুলোর আলোর প্রতিফলন হচ্ছিল । শান্ত
নিরিবিলি বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়ায় আমরা পোখারায় চড়ে বেড়াচ্ছি ।লাযিয রেস্টুরেন্টে
খাবার বুকিং দিলাম সবশেষে । লাযিয এর মালিক বেশ ভালো বাংলা বুঝে আর বলতেও পারে। দুবাইতে
উনি যখন ছিল তার রুম মেট রা সবাই বাঙালি ছিল। সেই সূত্রে বাংলা অনেক ভালো শিখে গেছে।
রেস্টুরেন্টে
খাবার দাবার পর্ব শেষ করে পরদিন ট্রেকিং এর জন্য শুকনা খাবার আর পানি নিয়ে নিলাম একটা
শপিং মল থেকে। খাবার হিসেবে একটা পী নাট বার আর চকলেট নিয়েছিলাম ।আবারো সেই এক হাজার
রুপির মতন খরচ হয় । চায়না টাউনের সামনে আমি নাভিদ আফ্রিদি প্রায় ১০০ টার মতন ট্রায়াল
পোজ দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করি ।সবকিছু শেষ করে হোটেলে ব্যাক করলাম ।আগামীকাল থেকে
মারদি হিমাল অভিমুখী ট্রেক শুরু হওয়ার কথা। সেজন্য রাত ১২ টার মাঝেই আমরা সবাই মোটামুটি ঘুমিয়ে পড়ি।




No comments:
Post a Comment