Friday, June 6, 2025

সপ্তম দিন ( গন্তব্য বাংলাদেশ )

 

০৪ জুন ২০২৫

সকাল ছয়টার দিকে ঘুম থেকে উঠে যাই। আমি, প্রমি আর নাভিদ বেরিয়ে পড়ি থামেল কাঠমান্ডুর রাস্তায়। সকালে তেমন কোন খাবারের দোকান না পাওয়ায় শপিং করতে থাকি। আমি হ্যাট,ব্যাগ, শাল আর স্যুভিনিয়ার হিসেবে এভারেস্ট ফ্রিজ ম্যাগনেট কিনি। বাকিরা আরো বেশ কিছু জিনিস কিনে যেমন খুকুরি। নেপালে ছুরি চাকু টাইপ জিনিসের রেপ্লিকাকে খুকুরি বলে। মানুষ শো পিস হিসেবে ব্যবহার করে।  আমি ওদের সাথে ঘুরতে থাকি কেনাকাটা শেষে। প্ল্যান ছিল কিছু হিস্টোরিক প্লেস দেখার কিন্তু সময় কুলালো না।

কাঠমান্ডু নামা

থামেল মার্কেট


কাঠমান্ডু নেপালের রাজধানী অথচ দেখে মনে হয় বাংলাদেশের ছোটখাটো একটা মফস্বল। খুবই ছিমছাম পরিপাটি সুন্দর শহর ।অতিরিক্ত কোন আড়ম্বরতা নেই। বিল্ডিং গুলো ঢাকার মতন বহুতল বিশিষ্ট না। দুই তিন তলা বিল্ডিং ,কিন্তু শৈল্পিক সৌন্দর্য স্পষ্ট ।আশপাশের কোন শব্দদূষণ নেই ,ময়লা আবর্জনা নেই। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। কেনাকাটা শেষে থামেলের সেই মুহাম্মাদ্স কিচেনে কোথে মোমো খেলাম ব্রেকফাস্ট হিসেবে ।ব্রেকফাস্ট শেষে চকলেট ফ্লেভার এর বোবা টি খেলাম ৩০০ নেপালি রুপিতে। বেশ সন্তোষজনক মনে হলো দাম হিসেবে । দোকানে একজন দুবাই এর বাঙালির সাথে দেখা হলো। আমাদের সাথে বেশ অনেক ক্ষণ কথা বললেন। আমাদের থেকে এক বছর সিনিয়র। পড়ালেখা শেষ করার আগেই দুবাই পাড়ি জমে জমিয়েছেন। উনার বাড়ি কুমিল্লায়। আজকে আমাদের সাথে একই ফ্লাইটে ঢাকা যাবে। উনার নাম টা পুরোপুরি মনে পড়ছে না।সম্ভবত ইমরান নাম ছিল।উনার সাথে আমরা কিছুক্ষণ গল্প গুজব করলাম। তা শেষে মানি এক্সচেঞ্জে এনপিআর থেকে ডলারে ভাঙিয়ে আমরা এন্টিক হোস্টেলে ব্যাক করলাম ।বেলা সাড়ে বারোটার দিকে হোস্টেল থেকে পাঠাও নিয়ে ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে প্রবেশ করি।


থামেল মার্কেট লাস্ট স্ন্যাপ!



এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনে ঢোকার পরে একটা অদ্ভুত হাস্যকর ঘটনা ঘটে।রিহা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। তা দেখে এয়ারপোর্টের লোকজন মনে করেছিল পাশের Disabled Persons দের জন্য ইমিগ্রেশন ওদের জন্য!

বিকাল  চারটার দিকে। একদম ঠিকঠাক সময়ে প্লেন টেক অফ করলো । জানালা দিয়ে মাউন্ট এভারেস্ট দেখা যাচ্ছে। খন্ড খন্ড মেঘের ভেতর দিয়ে আর অবারিত সুন্দর মুহূর্ত নিয়ে আমরা বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ল্যান্ড করলাম। ইমরান ভাই আমাদের চকোলেট উপহার দিল বোর্ডিং এর দিকে যাওয়ার সময়। পর্দা নামলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি পর্বের।

 

দূরে মাউন্ট এভারেস্ট দেখা যায়!

জীবন সংক্ষিপ্ত ,পৃথিবী অনেক বড় । স্রষ্টা পৃথিবীকে সাজিয়েছেন তাঁর অপার কৃপায় ,অসাধারণ নৈপুণ্যে। জীবন থেমে থাকে না, এগোতে এগোতে একসময় পাড়ি দেয় অসীমের গন্তব্যে । জীবনে চলার পথের অসম্পূর্ণ আশা-আকাঙ্ক্ষা গুলোকে অপূর্ণ রাখা উচিত নয়- এই নেপাল ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় বারংবার এটাই মনে হয়েছে ।হয়তো জীবনে আরো অনেক কিছুর সুযোগ আসবে, প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করলে অন্তত জীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে হয়তো আফসোস কম থাকবে।সবশেষে এটাই …

                                                           “Sayonara Nepal

                                                     You will be remembered”



No comments:

Post a Comment

সপ্তম দিন ( গন্তব্য বাংলাদেশ )

  ০৪ জুন ২০২৫ সকাল ছয়টার দিকে ঘুম থেকে উঠে যাই। আমি, প্রমি আর নাভিদ বেরিয়ে পড়ি থামেল কাঠমান্ডুর রাস্তায়। সকালে তেমন কোন খাবারের দোকান ...